ফলে গতকাল ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোয় দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। যুদ্ধের শুরু থেকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর এপি।
শেয়ারবাজারের তথ্যে দেখা গেছে, জাপানের নিক্কেই ২২৫ ইনডেক্স দশমিক ১ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক সামান্য বাড়লেও সাংহাই কম্পোজিট সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ করার পর দেশটির শেয়ার সূচক দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাউ জোন্স সূচক বড় ধরনের উত্থান দেখলেও একদিনের মাথায় ফিউচার মার্কেটে সামান্য পতন লক্ষ করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে চালায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। তাই দীর্ঘ সময় পথটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানীসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি লেবাননেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান জোরদার হয়েছে। ফলে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ বা ১০ লাখের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও অনেক পেশাদার বিনিয়োগকারী আশা করছেন, তেলের দাম খুব বেশি সময় ধরে আকাশচুম্বী না থাকলে বাজার আবার দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।